সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম-৩) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শেষ লড়াই হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, এটা দায়িত্ব। দল ও এলাকার মানুষের প্রতি দায়িত্ব।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও তার ওপর আস্থা রেখেছে, এবারও রেখেছে। “আমার দল বিএনপি আমাকে আগেও পাঁচবার এই আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি ছাড়া এই আসন থেকে বিএনপির আর কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেনি,” বলেন তিনি।
এই আস্থার জায়গা থেকেই তিনি আবারও নির্বাচনী মাঠে নামছেন বলে জানান। তার মতে, বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে দলকে আসনটি উপহার দেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমি যেহেতু তিনবার এই এলাকার এমপি ছিলাম, তাই এলাকার প্রায় সব সমস্যাই আমার জানা। মানুষের সেবা করাই আমার দায়িত্ব।”
বয়স ও নেতৃত্ব নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে পাশা সাহেব সরাসরি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা একটি বড় বিষয়। “আমি ১৯৭৩ সাল থেকে রাজনীতিতে আছি। পাঁচবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি,” বলেন তিনি।
এবারের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের অনেকেই তরুণ এবং রাজনীতিতে নতুন। “আমি তাদের অনুরোধ করেছি—এই নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক। মাঠে কাজ করলে অভিজ্ঞতা আসে। ভবিষ্যতে দল অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করবে,” বলেন তিনি।
নিজের আগের মেয়াদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। স্বীকার করেন, অনেক কাজ অপূর্ণ থেকে গেছে। “২০০৮ সালে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। বিরোধীদলীয় এমপি হওয়ায় আমার বা আমার এলাকার উন্নয়নে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
তার দাবি, সে সময় সন্দ্বীপের উন্নয়নের জন্য কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এবার অগ্রাধিকারের কথা বলছেন।
তিনি জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে নৌপথ সমস্যার সমাধান। “নৌপথ সমস্যা সমাধানই হবে আমার প্রথম কাজ,” বলেন তিনি। তার মতে, নৌপথ শুধু যাতায়াতের বিষয় নয়, বরং সন্দ্বীপের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এ ছাড়া তিনি বলেন, সন্দ্বীপের মানচিত্র থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়া এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ করবেন। “ইনশাল্লাহ, এসব কাজ করবো,” বলেন তিনি।
নৌযোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমার দল যদি ক্ষমতায় আসে এবং আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, তাহলে আধুনিক নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবো।”
রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পাশা সাহেব বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার পরিবার অতীতে সহিংসতার শিকার হয়েছে—এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা আমাকে হত্যার জন্য জলদস্যু দিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করিয়েছিল এবং আমার বড় ছেলে জাবেদকে গুলিবিদ্ধ করেছিল, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে। বাকিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।”
তিনি বলেন, এসব ঘটনা তাকে প্রতিশোধপরায়ণ করেনি। বরং রাজনীতিতে আরও সতর্ক হতে শিখিয়েছে।
দলের ভেতরের ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মনোনয়ন চাওয়া সবার অধিকার। “দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার ছিল,” বলেন তিনি।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান। “আমি সহযোগিতা চেয়েছি, সবাই পজিটিভ সাড়া দিয়েছে,” বলেন তিনি।
আগামী নির্বাচনে জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবে। “ইনশাল্লাহ, সন্দ্বীপের আসন আগের মতোই আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারবো,” বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকার জুড়ে পাশা সাহেব বারবার দায়িত্বের কথাই বলেছেন। শেষ লড়াই নয়—এই শব্দটিই তিনি এড়িয়ে গেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নিজেকে এখনও দায়িত্বে থাকা একজন মানুষ হিসেবেই দেখতে চান।
নির্বাচনী মাঠে এই অবস্থান কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়