ইসমাইল হোসেন মনি
আমি প্রেম সমুদ্রে প্রবল অনুরাগে পুলক তরঙ্গে ভেসে যেতে চেয়েছি তোমার আঙ্গিনায়।
অথচ একটুও জানা ছিল না গভীর জলে বাস করা তুমি উদভ্রান্ত শানানো দন্তে ভয়ানক হাঙ্গর।
তোমার পাতানো নীল নকশায়, আমার প্রেমের স্বর্গ-প্রাসাদের ধ্বংস লীলা দেখে সজারুর মত কাঁটার গৌরবে হেঁসেছিলে।
অথচ আমার কান্নায় সকল সাজ মলিন করে নিরবে কেঁদেছিল বাসন্তী বাগান।
আমি শুরভিত কাননের মধু চুষে বানায় দারুন মৌচাক আর তুমি কালো ভীমরুল হয়ে শিকার কর স্বপ্ন-সাজ।
আরো পড়ুনঃ কবিতাঃ কলম রাখিস স্থির
তুমি হিংসুটে ক্যাকটাসের মত বিষমাখা কাঁটা নিয়ে তোল নতুন তারণা আর আমার কাঁটা না থাকায় কাঁটার আঘাত সইতে পারি না।
তোমার দুরন্ত চাতুর্যে আমার স্বপ্নের সূর্য ডুবে যায় তোমার সাধা চাহনির কাল ইশারায় অনেক কিছু বদলে যায়।
আমার রাজপুরের সাম্রাজ্যে তোমায় মহারানীর আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্লাবিত জ্যোৎস্নায় শ্যামের বাঁশির সুর তুলেও তোমার বহু পিপাসিত মনরাজ্য অধিকার করতে পারিনি।
অন্য মূর্ছনায় মেতে উঠা ওগো প্রানের বেহুলা তোমার বুকে একে ছিলাম অনবদ্য ভালবাসার স্বরলিপি অথচ এ লখিন্দর আজ নিঃসঙ্গতার ছোবলে মর্মান্তিক বেদনায় বিষিত।
তোমায় মানসি মমতাজ ভেবে হৃদবন্দরে তাজমহল গড়েছি অথচ তোমার প্রেমের লালসার অনাচারে আমার অন্তঃনগর ট্রয় নগরের মত জ্বলছে।
আমি চিনিনি তোমায় তুমি যে রঙ্গলীলার আহবান করা সহস্র ভ্রমরের রাতের শিউলি।
কাল হয়তো আমি থাকবো না ভয়ানক ডাইনির কালো থাবায় আমার প্রেমের অকাল মৃত্যুর ইতিহাস আর তোমার দেওয়া, অবিচারের স্বারকলিপি আমি রেখে গেলাম, আগামী প্রজন্মের কাছে, বিচারের আহবানে…