• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

একটি বটবৃক্ষের মৃত্যু ও কিছু জলদস্যু

শামসুল আজম মুন্না, সাংবাদিক। / ৩৫৪ ৪ ৯
আপডেট: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের রাজনৈতিক দখলদারিত্বের কারণে কুমিরা- গুপ্তছড়া নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিসি'র নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সন্দ্বীপের মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এই ভোগান্তিকে পুঁজি করে জলদস্যুরা সন্দ্বীপের মানুষকে জিম্মি করে তাদের লুটপাটের নৌ ব্যবসা চালাতে থাকে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের রাজনৈতিক দখলদারিত্বের কারণে কুমিরা- গুপ্তছড়া নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিসি’র নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সন্দ্বীপের মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এই ভোগান্তিকে পুঁজি করে জলদস্যুরা সন্দ্বীপের মানুষকে জিম্মি করে তাদের লুটপাটের নৌ ব্যবসা চালাতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে BIWTC ‘ জাহাজ পরিষেবা পুনরায় চালু করে সন্দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন শামসুল আলম। তৎকালীন বিআইডব্লিউটিসি’র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে তিনি জনস্বার্থে ২০০৯ সালে তাঁর শ্যালক মাহমুদুর রহমানের নামে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন (রিট পিটিশন নং 8703 of 2009)।

সুদীর্ঘ সাত বছর বিআইডব্লিউটিসি’র পক্ষে এই ব্যয় সাপেক্ষ মামলা পরিচালনা শেষে ১৩/০২/২০১৬ তারিখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিআইডব্লিউটিসিকে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে উক্ত নৌরুটে বিআইডব্লিউটিসি’র নৌযান চলাচলের অধিকার পুনঃস্থাপন হয়েছে।

কয়েকজন সাংবাদকর্মী ছাড়া সরকার/স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কেউই তখন সন্দ্বীপের মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। রিট পিটিশন দায়ের করার পর মামলা চালিয়ে নেওয়ার জন্য শামসুল আলম কারও কাছ থেকে পাননি পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা। নিজের জায়গা জমি সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি এই নৌরুটের চাষাবাদ করে গেছেন। অথচ সেই চাষের ফসল ভোগ করার জন্য এখন সবাই মরিয়া হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ ও অপেক্ষার পর ২০১৬ সালে BIWTC উক্ত নৌরুটে জাহাজের কমিশন এজেন্ট নিয়োগের সময় সেই শামসুল আলমকে বাদ দিয়ে সন্দ্বীপের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার সুপারিশে ইকরাম উদ্দিন ফরহাদ নামের জনৈক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন।

এই ঘটনায় শামসুল আলম মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন এবং BIWTC অফিসে স্ট্রোক করেন। হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 


Skip to toolbar