গেলো ৫ আগষ্ট সরকার বিতাড়নের পর সবচেয়ে সক্রিয় হওয়ার কথা ছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের। ধারাবাহিক দলবাজিতায় সংস্থাটি অনেক আগে থেকেই ন্যুব্জ হয়ে আছে, এখন তারা আরো বেশি অথর্ব। এ কারণে অখাদ্য কর্মকর্তারা লুটেরা মন্ত্রী, এমপি, নেতাদের বিরুদ্ধে আজ অব্দি প্রাথমিক ভাবে তথ্যবহুল শক্তিশালী কোনো অভিযোগ পর্যন্ত তুলতে পারেননি।
তাই উপরের নির্দেশনায় ন্যুব্জ থাকা অকর্মা পুলিশ একেকজন এমপি, মন্ত্রী, লুটেরা নেতাদের আটক করে ৫/৭ দিনের রিমান্ড নাটক মঞ্চস্থ করে চলছে। গ্রেফতারকৃতদের মুখ থেকে কোনো রকম অপরাধে জড়িত থাকার তথ্যও তারা বের করতে পারছে না। করবেই বা কিভাবে? সকলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ, আন্দোলনে হামলা চালানো আর একটি করে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর।
কারা তদন্তকারী অফিসার তা কি জানেন? সকল থানায় দলবাজ লীগ অফিসার বলে খ্যাত ঘাঘু পুলিশ অফিসাররাই মামলাগুলোর তদন্তকারী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। সব যেন আইওয়াশ!
তাছাড়া আন্দোলনে হামলা, হত্যা সংক্রান্ত গৎবাঁধা কোনো মামলা টিকবে কি না তা নিয়ে খোদ আইনজীবীরাই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একেকটি মামলা যে দুর্বল গাঁথুনিতে করা হয়েছে এবং যে হারে ১০/১২ পাতা জুড়ে আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার ধরন দেখলেই বুঝা যায় ভুয়া, সাজানো, উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
লুটেরাদের বিরুদ্ধে বেশুমার দুর্নীতি, লুটপাট, সরকারি অর্থের ব্যাপক তছরুপ সংক্রান্ত টেকসই অভিযোগ উত্থাপনের দায়িত্ব ছিল দুদকের। কিন্তু নতুন বধূর মতো তারা ভাসুরের নাম নিতে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছেন। এ কারণে সর্বাগ্রে দুদকের আন্ডা বাচ্চাসহ সবাইকে হটিয়ে পবিত্র পানি দিয়ে দপ্তরটি ধুয়ে মুছে ফেলুন তারপর সম্পূর্ণ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটির বিপ্লবী যাত্রা শুরু করুন। তা না হলে সবই আর কর্মবিমুখ পুলিশের ব্যাপারে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন অতি জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে দেশ সমাজ চলতে পারে না। ক্ষুব্ধ মানুষ চরম বিরক্ত হচ্ছে। তারা কিন্তু আইন শৃংখলার প্রশ্ন এমন ঢিলেঢালা অন্তর্বর্তী সরকার আশা করে না।
সাইদুর রহমান রিমন,সিনিয়র সাংবাদিক ।