• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

সন্দ্বীপে সরকারি অফিসে বিএনপির নির্বাচনী সভা

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ১৩ ৪ ৯
আপডেট: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

সন্দ্বীপে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি অফিসে নির্বাচনী সভা করেছে ইউনিয়ন বিএনপি। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরে ওই নির্বাচনী সভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেকোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা বা সভা করা নিষিদ্ধ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অভ্যন্তরে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা এক নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় ডাকেন। সেখানে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার কৌশল ও ভোট কেন্দ্র কেন্দ্রিক নানা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপি নেতারা। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার নির্দেশে সেখানে জমায়েত হয়েছেন বলেও বক্তব্য দিতে শোনা যায়। অন্তত কয়েকশো নারীকে জমায়েত করে সেখানে ফ্যামিলি কার্ডের প্রচারণাও চালান বিএনপির নেতারা৷  দেওয়া হয় নানা প্রকার আশ্বাস।

সরকারি প্রশাসনিক ভবনে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সভা করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।  এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চলছে।

জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করতে পারবেন না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সরকারি দপ্তরে নির্বাচনী সভার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কমকর্তা জিতু বড়ুয়া জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকায় সেখানে তো আমার কিছু করার নাই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুরাইয়া বেগম জানান, আজকে দুঃস্থ মহিলাদের চাল বিতরণ কর্মসূচি চলাকালীন বিএনপি নেতাদের নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা জোর করে প্রবেশ করেছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা (ইউএনও) বলেন, আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রশাসনিক ভবনে নির্বাচনী সভা করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন থেকে বারবার নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি মানার নির্দেশনা দেওয়া হলেও মুছাপুরের এই ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি স্থাপনা ব্যবহারে কোনো একটি পক্ষকে ছাড় দেওয়া হলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


Skip to toolbar