সন্দ্বীপের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি প্রকল্পের অর্থে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাত করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, সংসদ সদস্য থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অবৈধ সম্পদের তথ্য আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
দুদক জানায়, সম্পদ বিবরণী জমা দিলেও মাহফুজুর রহমান তাঁর ব্যবসা ও মৎস্য খাত থেকে আয়ের সপক্ষে পর্যাপ্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
সংস্থাটির তথ্যমতে, তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন দফা এমপি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।
২০১৪ সালের হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৫ টাকা। এক দশক পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা শতকরা ১০১ ভাগ বৃদ্ধি। একই সময়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৯৯ শতাংশ। এছাড়া তাঁর স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদও ১৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।