সন্দ্বীপ থেকে এখন কোন যাত্রী চট্টগ্রাম যাওয়ার সুযোগ নেই, কিন্তু বাইরে থেকে সন্দ্বীপ আসলে বেশি কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম ।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সন্দ্বীপ থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এ তিনি একথা বলেছেন ।
তিনি আরো বলেন, দুই দিন আগে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপে আসা দুইটি নৌকা জব্দ করেছি । সন্দ্বীপ থেকে এখন কোন যাত্রী চট্টগ্রাম যাওয়ার সুযোগ নেই। এবং এখন আরো কঠিন ভাবে সেটি পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে ।
এ সময় ওসি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কেউ আসলে সেটা নির্বাহী কর্মকর্তা সীতাকুন্ডের নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ ব্যাপারে ওনার এর চেয়ে বেশী করনীয় নেই ।
লকডাউনের ১৪ তম দিনেও নৌ ঘাট গুলোতে যাত্রী পারাপার বন্ধ করা যায়নি, ফলে করোনা সংক্রমিত হবার আশংকা করছে সন্দ্বীপের আপামর জনতা ।
আরো পড়ুনঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ৩০০ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিলো ছাত্রলীগ
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিরা-গুপ্তছড়া, বাঁশবাড়িয়া ও গাছুয়া ঘাট দিয়ে মালের বোটে সন্দ্বীপ প্রবেশ করছে অগণিত মানুষ । যাদের বেশির ভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরী থেকে ফিরছেন ।
জানা গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সন্দ্বীপের মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে চান । অনেকে আগেই সন্দ্বীপে চলে এসেছেন ।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপী অধ্যুষিত হালিশহরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সুযোগ পেলে অনেকেই সন্দ্বীপ ফিরতে চান এমন কথাও বাতাসে ভাসছে ।
তরুণ সাংবাদিক জাহিদ হাসান শাকিল তার ফেসবুকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দিক থেকে খবর পেলাম পৌরসভার আকতার নামে একজন আনসার সদস্য রোববার সন্ধ্যায় সন্দ্বীপ এসেছে ঢাকা মিরপুর থেকে।
বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফজলুল করিম ও সন্দ্বীপ থানার ওসি কে জানালে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আকতার এর বাড়িতে যান । আকতার জানালেন তার একটু কাশি ছাড়া আর কোন সমস্যা নেই।
আরো পড়ুনঃ “সন্দ্বীপকে শীঘ্রই শতভাগ মাদকমুক্ত করা হবে” ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম
তিনি আরো বলেন, আক্তারের সাথে ডাক্তার কথা বলেছেন পাঁচ ফিট দূর থেকে, ওসি বললেন মাইকে। পরে করোনা টেস্টের জন্য কোন নমুনা না নিয়েই ওনারা আকতারকে স্বপরিবারে হোম কোরায়েন্টাইন এ দিয়ে এসেছেন ১৪ দিনের জন্য ।
শাকিলের মতে, আকতারকে এখন আলাদা কোয়ারেন্টাইনে রাখা উচিত ছিল ।
এর আগেও তিনি বাউরিয়া জেনারেল হাসপাতাল কে কোরায়েন্টাইন সেন্টার করার দাবি করেছিলেন ।
লকডাউনের মধ্যেও যাতায়াতের বিষয়ে ফোন করলে ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, সন্দ্বীপ থেকে পুলিশের নজর এড়িয়ে কেউ যাচ্ছেনা , ৩ জন গিয়েছেন জরুরি কাজে । উল্টো সিতাকুন্ড থেকে কিছু লোক সন্দ্বীপে প্রবেশ করছে, ওটা বন্ধ করেন আগে ।
সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায় স্বাধীন বলেন, আজ সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সকল নেতৃবৃন্দ প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকটি প্রস্তাবনা রাখেন।
প্রস্তাবনা গুলো ছিলো, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নৌ-যাতায়াত বন্ধে সীতাকুন্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা, এসপি ও ঘাট ইজারাদারদের চিঠি ইস্যু করে ঘাট গুলোতে চেকপোস্ট নিশ্চিত করা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা সংবাদ কর্মীদের প্রস্তাবে সীতাকুন্ড নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি ইস্যু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন ।
আরো পড়ুনঃ আলাউদ্দীন আলা`র ২য় ধাপে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
অপর দিকে সন্দ্বীপ উপজেলা গেইটে সংবাদ কর্মীরা কৌতুহল বশত একটি সিএনজিকে দাঁড় করালে ভিতরে থাকা দুই যাত্রী তখন কুমিরাঘাট দিয়ে লালবোটে করে সন্দ্বীপ এসেছেন বলে জানান।
দুইজন হচ্ছেন বেক্সিমকো এবং স্কয়ার কোম্পানীর ডেলিভারি ম্যান মফিজুল ইসলাম ও উমেশ চন্দ্র মিস্ত্রী। তাদের দুই জনের বাড়ি খুলনা তবে তারা চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। কিন্তু তাদের শুধু মাস্ক ছাড়া কোন জীবানু প্রতিরোধক ব্যবস্থা ছিলোনা। বা পিপিই ছাড়া যাতায়াত করছিলেন।
বিষয়টি তাৎক্ষনিক সন্দ্বীপ থানার ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুল করিমকে অবহিত করা হলে তারা বলেন ঔষধের ডেলিভারি ম্যান যাতায়াতে বৈধতা আছে।
কিন্তু তারা যে জীবানু বহন করছেনা সেটার নিশ্চয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জাকায়েত উল্যা কে পাঠিয়ে তাদের করোনার লক্ষন নেই বলে নিশ্চিত করেছেন বলে জানান। এবং আগামীতে পিপিই ছাড়া যাতায়াত করলে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখবেন বলে সতর্ক করেছেন। তারা দুইজন রহমতপুর হোটেল শুভ নাঈমাতে অবস্থান করছে।
আগত দুই জন কে প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, সন্দ্বীপে আসতে বাধা নেই তবে যাওয়া যাবেনা ।