সুস্থ থাকার অন্যতম অনুষঙ্গ পুষ্টিকর খাবার,পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম।”বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক ভেদে একেকজনের জন্য একেকধরনের খাবার উপযোগি”। সুস্থ থাকতে বয়স অনুযায়ী দেহে পুষ্টির চাহিদা জেনে নিই ____
“১৩ থেকে ১৯ বছর” বয়সকে বলা হয় টিনএজ। টিনএজ বয়সে ছেলে-মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন ঘটে এবং দেহে ব্যাপক পুষ্টির চাহিদা থাকে। এজন্য এই বয়সে প্রচুর পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত ।
“২০ থেকে ২৯ বছর”বয়সকে বলা হয় যৌবন।যৌবন বয়সে শর্করা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে। মিল্ক চকলেটের বদলে ডার্ক চকলেট, মিষ্টি দইয়ের বদলে টক দই, সাদা পাউরুটি না খেয়ে লাল পাউরুটি, বাদাম, মুরগির মাংস, ফলিক এসিড এবং ওমেগা ৩ জাতীয় খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
“৩০ থেকে ৩৯ বছর”বয়সে অনেক পরিবর্তন আসে। দরকার সঠিক ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা।প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। ডিম, মুরগি, ডাল, বাদাম, শস্যদানা এই খাবারগুলো প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়া ফ্যাট ছাড়া দুধ ও টক দই খেতে হবে নিয়মিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।
“৪০ থেকে ৪৯ বছর”বয়সে রক্তচাপ এবং বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে । আঁশজাতীয় খাবার খেতে হবে । ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখার জন্য ব্রকলি, শস্যদানা ও শাক-সবজি খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড একেবারেই বাদ দিতে হবে।
“৫০ থেকে ৫৯ বছর”বয়সে বিপাক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। ফ্যাটবিহীন দুধ ও টক দই খেতে পারেন। দুধের সঙ্গে মধু মেশানো যেতে পারে। এছাড়া চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে পারে। বয়সের ছাপ এড়ানোর জন্য ব্রকলি, ব্লুবেরি, বাদাম, শাক-সবজি খেতে হবে। আপেল খুবই উপকারি। আপেল খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেহে আঁশের চাহিদা পূরণ হয়।
“৬০ বছরের” পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এসময় আরও সচেতনতা দরকার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে ৫ ধরনের শাকসবজি ও ২ ধরনের ফল। আয়রনজাতীয় খাবার খেতে হবে। হজমে সমস্যা করবে না সেগুলো খেতে হবে। রান্না করা খাবারে লবণের পরিমাণে কমাতে হবে। দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।