স্পর্শ
সেই বহুদিন আগে,
ঠিক জন্মের পরে
একজন নারীর স্পর্শ পেয়েছিলাম—
হয়তো বুঝিনি জগৎ নামের কোথাও আমি
স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মাথায় নাড়াচাড়া দেই নাই
মনে নেই ঠিক সেই সময়ের কথা
আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম
বন্ধুবান্ধব অনেক মানুষের
কোমলহৃদয়ের জগতজুড়ে থাকা হাজার প্রাণের
নানাবিধ কারণে স্পর্শ পেয়েছিলাম।
তবে সবার স্পর্শ কেন জানি আলাদা মনে হলো
মায়ের ছোঁয়ার চেয়ে জগতে কোনকিছুরই স্পর্শ স্পষ্ট নহে।
মায়ের হাতে ছোঁয়া ভালবাসায় মোড়ানো স্বার্থপরতা নেই,
কোন খাদ নেই
স্বার্থের জন্যে নয়ে ‘মা’ ভালবাসে আপন মোহে—
জীবনে বহু নরনারীর সাথে চলাফেরা কইরা অবিজ্ঞ হইবা পারো,
তবে মা জননীর কাছে তুমি সেই ছোট্ট শিশুটি আছো
হয়তো তোমারে ঘুমপাড়ানি ছন্দের তালে তালে ঘুমপাড়াইতো
ঘুমের জগতে যাইবার পরেও বারবার আইসা চাইতো—
মা এখন আর আসে না—
এখন আর আসবো না—
এখন আর আসার সময় নেই—
সেই অনেক আগে
হঠাৎ করে জীবনের শেষ স্পর্শ স্পষ্ট ভাবে না দিয়ে হারিয়ে গেলো
তুমি কি এখনো সেই স্পর্শ স্পষ্ট স্বরণে রাখো?
নাকি নতুন নারীর মোহে পড়লে
জীবনের প্রথম স্পর্শ ভুলতে চলেছো?