• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন

হরিশপুর -রহমতপুর সংযোগ ব্রীজ নির্মান হবে কবে ??

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ৪২২ ৪ ৯
আপডেট: শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২০

পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ড ও পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড সংযোগ সেতু যা হরিশপুর- রহমতপুর সংযোগ সেতু নামে পরিচিত ছিলো।এটি উত্তর সন্দ্বীপের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকদের যাতায়তের জন্য একটা সহজ ও প্রয়োজনীয় মাধ্যম । বিশেষ করে সন্তোষপুর, কালাপানিয়া, হরিশপুর ও পৌরসভার হাজারো লোকজন প্রতিনিয়ত এই রুটে চলাচল করতো বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্সে আসার জন্য।১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই সেতুর সংযোগ সড়কটি ছিলো অত্যান্ত ব্যস্ততম সড়ক। কিন্তু ২০১৩ সালে স্লুইসগেইট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সন্দ্বীপ পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড প্রতিনিয়ত প্লাবিত হতো। আর অত্যাধীক স্রোতের কারনে পৌরসভার খাল গুলো প্রসারিত হয়ে প্রায় সবকটি ব্রীজ ও কালভার্ট ভেঙ্গে অকেজো হয়ে যায়। সেই সময়ে একই কারনে এই সেতুটিও ভেঙ্গে পড়ে। আর তখন থেকে দুর্ভোগ নেমে আসে এই চারটি ইউনিয়নের লোকজনের। ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও।এলাকার একজন পল্লী চিকিৎসক রুবেল জানান এই সেতু ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে মানুষ ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে বাঘের হাট হয়ে খাদ্যগুদাম রোডের মাধ্যমে সন্দ্বীপ টাউনে যাতায়াত করতে হয়।যার কারনে গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া এবং সময় লাগে প্রায় দ্বিগুন।এছাড়াও পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ফয়সাল জানান ৩/৪ টি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়ার কারনে ক্লাসে প্রতিনিয়ত উপস্থিত হতে পারেনা।অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়ার কারনে প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজে না গিয়ে সপ্তাহে এক /দুই দিন ক্লাস করে অন্য ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে নোট সংগ্রহ করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হয়।তরকারী ব্যবসায়ী শামসুদ্দীন জানান এ রুটে এখন রিক্সা ও অন্য যানবাহন না চলায় কৃ্ষি পন্য ও উৎপাদিত সব্জীর সঠিক দাম পাচ্ছেনা কৃষকরা অন্য দিকে চট্টগ্রামের সব্জী আমদানীতে খরচ পড়ে বেশী ফলে সে সব পন্য ক্রেতারা কিনতে হয় বেশী দামে। হাসপাতালেও জরুরী রোগী পরিবহনেও রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পৌর কমিশনার মাঈন উদ্দীন মহি বলেন সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ২/১ বার এবং অতি সম্প্রতি পৌরসভা অফিস কর্তৃক ও বিভিন্ন সময়ে এলাকার বিত্তবান লোকদের সহযোগিতায় বিশেষ করে মাষ্টার কুন্তল রন্জন শুর এর অার্থিক সহায়তায় বাঁশের সাঁকো নির্মান করে কোনমতে মানুষ চলাচলের সুবিধা করে দেয়া হয়েছিলো। ।পুর্বে খাল বার বার প্রসারিত হওয়ার কারনে ব্রীজ নির্মান ছিলো অসম্ভব। কিন্তু পরবর্তীতে বেড়িবাঁধ নির্মানের পর জোয়ার ঢুকা বন্ধ হওয়ার ফলে পলি জমে খাল গুলো আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসে। এবং বর্তমানে সন্দ্বীপের পশ্চিমাংশে বিশাল চর জাগার ফলে এই খালটিতে এখন ব্রীজ নির্মান অত্যান্ত সহজ ও দীর্ঘ স্থায়ী হবে বলে মনে করেন এলাকার মানুষ। যার কারনে বিগত কয়েক বছর ধরে পৌর মেয়র বরাবরে স্থানীয় লোকজন সেতুটি পুনঃনির্মানের আবেদন করলে তিনি বলেন এতো বড় ব্রীজ করা পৌরসভার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারন যেখানে আমাদের প্রতি অর্থ বছরে বাজেট থাকে মাত্র ৪/৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্রীজটি নির্মান করতে লাগবে প্রায় এক কোটি টাকা। তাই এই ব্রিজটি করতে গেলে অন্যান্য উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। অপর দিকে সন্দ্বীপের নির্বাচিত সফল সাংসদের বরাবরে বিভিন্ন জনসভায় ব্রীজটি নির্মানের দাবী জানালে তিনি পৌরসভায় কাজ করা ওনার এখতিয়ারের বাইরে বলে মন্তব্য করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা ওনার বরাবরে আবেদন করলে তা সম্ভব বলে মন্তব্য করলেও রাজনৈতিক অন্ত কোন্দলের কারনে তারাও সাংসদের কাছে যাচ্ছেননা। এমতাবস্থায় এই জনগুরুত্বপুর্ন সেতুটি রাজনৈতিক কোন্দলের শিকার বলে মন্তব্য করছে সুশীল সমাজ। তাই এটি পুনঃনির্মান হচ্ছেনা।

গত ৪ মাস পুর্বে সংসদ অধিবেশনে মাননীয় সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী বরাবর এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রীজটি নির্মান করে দেওয়া হবে কিনা জিজ্ঞেস করলে মাননীয় মন্ত্রী বলেন সন্দ্বীপ এ ৫ বছরে আমরা অনেক উন্নয়ন করলেও কোন ব্রীজ নির্মান করা হয়নি। তাই প্রকল্প জমা দিলে অচিরেই সেটি করে দেওয়া হবে। সাংসদের এই উদারতা ও মন্ত্রীর আশ্বাস বানীতে নতুন স্বপ্নে বিভোর ৪ টি ইউনিয়নের বাসিন্ধারা ।


Skip to toolbar