করোনা সংক্রমণ এড়াতে সারাদেশে ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ হতে পারে । এধরণের আয়োজনে বড় আকারের সমাগম হয় । সে কারণেই আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবার পার্টি থেকে বিরত থাকবেন ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকদিন আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই প্রতিবেদন জমা দেয় , যাতে ইফতার পার্টির মতো লোকসমাগমকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ।
আরো পড়ুনঃ চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ১ জন
তবে, একই প্রতিবেদনে সীমিত পরিসরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ইফতার সামগ্রী বিক্রির অনুমতির জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে ।
এছাড়া রমজান মাস জুড়ে ভাসমান মানুষ ও ভিক্ষুকদের ইফতার বিতরণের বিষয়টিও উঠে আসে সুপারিশে।
জানা গেছে, রমজান শুরুর দিন থেকেই সরকারি বড় সংস্থাগুলো ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। সরকারি দল, বিরোধী দলসহ ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইফতার মাহফিল চোখে পড়ার মতো।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি সুজয় সরকার বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে এবার র্যাব সদর দফতর এবং ব্যাটালিয়নগুলোতে কোনো ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে না। তবে অসহায় ভাসমান লোকদের ইফতার সামগ্রী বিতরন ও ফাঁকা রাজধানীতে পাহারা দেবে র্যাব সদস্যরা।’
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার বলেন, ‘দুদক থেকেও কোনো ইফতার ও দোয়া মাহফিল হবে না। সামাজিক দূরত্ব এড়াতে জনসমাগম বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ইফতার মাহফিল হবে না। তবে ভাসমান পথচারীসহ নিম্ন আয়ের কিছু মানুষকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।’
এদিকে পুলিশ সদর দফতরের সহকারি উপ মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিলের নামে সারাদেশের কোথাও যাতে সোস্যাল গ্যাদারিং করা না হয় সেজন্য পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। অপরাধ যাতে বাড়তে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার মাহফিল বন্ধের পাশাপাশি সীমিত আকারে ইফতার সামগ্রী বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এ ব্যাপারে পুলিশ কিভাবে বাস্তবায়ন করবে তা জানাবে। তবে দেওয়া হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবে পুলিশ।