নুর নবী রবিনঃ
দখলবাজির পর ভাঙনের কবলে পরে ক্রমশ কমছে উড়িরচরের বন। দিনদিন সংকোচিত হচ্ছে বনের পরিধি। হ্রাস পাচ্ছে আয়তন।
চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর। সত্তরের দশকে মেঘনার মোহনায় জেগে উঠা এ চরের আয়তন ছিল ৫৫ বর্গ কিলোমিটার। ক্রমবর্ধমান নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বর্তমানে ২০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে উড়িরচরের বিস্তৃতি। উড়িরচরের পোড়াত্তনের পর থেকে প্রাকৃতিকভাবে ও সরকারী উদ্যোগে পুরো চর জুড়ে বন সৃষ্টি হয়। বনে কেওড়া, গরান ও লোনা গাছের অভয়ারণ্য গড়ে উঠে।
বনকে কেন্দ্র করে চালিত হয় মানুষের জীবন জীবিকা। গরু মহিষ ভেড়া পালন করে আয়ের উৎস পায় লোকজন। বনের ভেতরে খালগুলোতে মাছ শিকার করে সংসার চালায় কেউ কেউ। বক, ডাহুক, শালিক, কোয়েল, দোয়েল সহ হরেক রকমের পাখপাখালির নিরাপদ আশ্রম উড়িরচরের বন। সন্ধ্যার পর শেয়ালের ডাক ভেসে আসে বন থেকে।
কিন্তু তৎকালে সন্দ্বীপের ভাঙনরত ইউনিয়ন কাটঘর ও দীর্ঘাপাড়ের লোকজন ভিটেমাটি হারিয়ে কালাপানিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পাড়ি জমায় সদ্য জেগে উঠা উড়িরচরে। বসবাস ও চাষাবাদের প্রয়োজনে বাগান কেটে জমি তৈরি করা হয়। শুরু হয় বন নিধন। তারপর শক্তিসামর্থ্য অনুযায়ী হয় বন দখল। দখলবাজির সেই হুল্লোড়ে পেশিশক্তিধররা আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যায়। বন ছোট হতে থাকে, পাখিরদের কুঞ্জন কমে যায়। খালগুলো থেকে ঘটে মাছের বিলুপ্তি।
তারপর চরবাসী বনের অবশিষ্ট অংশকে আঁকড়ে ধরে জীবন চালায় জীবনের গতিতে। কিন্তু ফের থমকে যায় স্বাভাবিকতা। এবার যেন আর নিস্তার নেই। বাড়িঘরের সাথে নদী নিয়ে যাচ্ছে বনকেও। ভাঙনে রক্ষা পাচ্ছে না কিছুই। গরু মহিষ ভেড়া চড়ানোর জন্য আর চারণভূমি পাচ্ছে না রাখালরা। বাড়ছে উষ্ণতা। বন কে কেন্দ্র করে সংসার চালানো লোকদের মাথায় হাত।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে উড়িরচরের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ছাত্র জাকের পারভেজ বলেন, “উড়িরচরে ছোটবেলায় আমরা দলবেঁধে বাগানে যেতাম, কেওড়া গাছ থেকে কেওড়া আনতাম। সেগুলো বন্ধুদের সাথে ভাগ করে খেতাম। কিন্তু উড়িরচরে এখন আর এগুলো নেই। ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বনের অস্তিত্ব।” আরেক বাসিন্দা নকিরুল হাসান রহিম বলেন , ” আমাদের উড়িরচরে আগে গরমের দিনেও ইলেক্ট্রিক পাখা চালানোর প্রয়োজন হতো না। কিন্তু বর্তমানে বন কেঁটে ফেলা ও ভাঙনে বন বিলুপ্ত হওযার দরুণ উষ্ণতা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে ইলেক্টিক পাখা ব্যবহার করতে হচ্ছে সারাক্ষণ। “
সন্দ্বীপ জার্নাল/এনএনআর