• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ৬৭৫ ৪ ৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০
স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী
স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

যৌতুকের টাকার জন্য ফাতেমা নামের এক গৃহিণীকে বেদম শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন স্বামী জসিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে ফাতেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে বিকেলেই শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে ফাতেমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ফাতেমার লাশ হাসপাতালে ফেলেই পালিয়ে যায় জসীম ও তার পরিবার ।
এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম চাঁদশী গ্রামে । জানা যায়, যৌতুকের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী ফাতেমা আক্তারকে (২২) বেদম নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করেছে তার স্বামী। এরপর মরদেহ শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামীসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত ফাতেমা আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল এলাকার গিয়াস উদ্দিনের কন্যা। স্বামী মো. জসিম দর্জি গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম চাঁদশী গ্রামের সেলিম দর্জির ছেলে।
ফাতেমার বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, দুই বছর আগে ফাতেমার সঙ্গে জসিমের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। সিনথিয়া নামে তাদের দেড় বছরের এক শিশু কন্যাও রয়েছে। বিয়ের সময় ফাতেমার সুখের কথা চিন্তা করে জসিমকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেন। সেই টাকা শেষ হতে না হতেই ফাতেমার কাছে মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী জসিম ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এ নিয়ে ফাতেমা ও জসিমের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকতো। ফাতেমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতো জসিম।

সর্বশেষ সোমবার বিকেলে যৌতুকের দাবিকৃত টাকার জন্য ফাতেমাকে বেদম শারীরিক নির্যাতন চালায় জসিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে ফাতেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে বিকেলেই শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে ফাতেমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা স্থানীয় এক বাসিন্দা তাকে জানিয়েছে ।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান নিহতের পিতা।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) মো. তৗহিদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


Skip to toolbar