• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

রোজিনার ঝুলন্ত লাশ : অভিযোগের তীর কার দিকে ??

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ৮২৮ ৪ ৯
আপডেট: শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
রোজিনার অস্বাভাবিক মৃত্যু: অভিযোগের তীর কার দিকে ??
রোজিনার অস্বাভাবিক মৃত্যু: অভিযোগের তীর কার দিকে ??

বাদল রায় স্বাধীন:


গেল রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সন্দ্বীপ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের কামাল সেরাং এর বাড়ির রোজিনা (৩০) নামে এক গৃহবধূর লাশ তার বসতঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

একদিকে ঘটনাটি রোজিনার আত্মীয়দের হত্যা দাবী অন্যদিকে স্বামী পক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে মন্তব্য করলেও ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে এলাকা জুড়ে ও সোশাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন এটা পরিকল্পিত হত্যা।

রোজিনার মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের ৪ বছর পুর্বে সোহাগের সাথে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। দুই বছর ভালই চলছিলো তাদের পরিবার। এবং তাদের দুটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু বিয়ের দুই বছর পেরুতে জানা যায় সোহাগের সাথে তার আগের মৃত্যু বরন করা স্ত্রীর বোনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এবং সার্বক্ষনিক তার সাথে মোবাইলে কথা বলে। এ নিয়ে আমার মেয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানষিক ভাবে অত্যাচার করতে থাকে। এবং এ বিষয়ে মাথা ঘামালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতো। বলতো “তোর পিতাও নেই ভালো আত্মীয় স্বজনও নেই তোকে মেরে ফেললে কিছু হবেনা”। এ থেকে এটা স্পষ্ট তাকে সে মেরে ফেলে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।

রোজিনার বড় বোনের জামাই ওমান প্রবাসী মোঃ বেলাল জানান, গত ১৫ দিন আগে আমাকে সোহাগ ফোনে আমার শালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। সোহাগের অভিযোগের পর আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে ২ জনের মাঝে পরকীয়া বিষয়ে চরম ঝগড়া চলতে দেখে মিমাংসা করতে চেষ্টা করি কিন্তু আমি থামাতে না পেরে চলে আসি এবং মাস্টার সেলিম হায়দার কে বিষয়টি অবহিত করি । এছাড়াও ঐদিন তার বিবাহিত দেবর বেদার তাকে বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে অপবাদ দিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল করছিলো।রোজিনার ভালো গার্ডিয়ান না থাকাতে কেউ বিচার করেনি। তাই সে কোন বিচার হবেনা ভেবে মেরে ফেলেছে।

আরো পড়ুনঃ ৪০ টি কওমী মাদ্রাসায় পৌছালো এমপি মিতার উপহার ।

সোহাগের পিতা খালেক জানান, মৃত্যুর দিন সোহাগ বাড়ি ছিলোনা। অপরদিকে ভোররাতে রোজিনাকে সেহরী খেতে শুনেছি। এরপর তার ছোট বাচ্ছার চিৎকারে আমরা দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখি সে আড়ার সাথে ঝুলে আছে । কিন্তু দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকার ব্যাপারে বা রোজিনার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকার ব্যাপারে আশে পাশের অনেককে জিজ্ঞাসা করা হলেও কারো কাছে কোন প্রমান নেই।

অন্যদিকে শাহ-আমানত ট্রলারের খালাসী শামীম জানান, পরদিন সকাল ৬ টায় তানবীর ট্রলারের মালিক কামাল সেরাং গুপ্তছড়া ঘাট থেকে শাহ-আমানত ট্রলারের সেরাং সফিককে ফোন করে সোহাগের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে তাকে সন্দ্বীপ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এক ঘন্টা পর সে সন্দ্বীপে গেলে সমস্যায় পড়তে পারে জানিয়ে সে সন্দ্বীপ যাবেনা বলে অবহিত করেন ।

কামাল সেরাং জানান, ঘটনার আগের দিন দুপুর সাড়ে বারোটায় সোহাগ বোটে উঠে সারাদিন রাত আমার ট্রলারে ছিলো। সন্দ্বীপ থেকে ভোর সাড়ে তিনটায় ছেড়ে তিন ঘন্টা পর চট্টগ্রামের কুলে যাওয়ার পরে তার স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনতে পেয়ে গুপ্তছড়া নয় মেঘনার উপকুল বা চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ঐ ট্রলারকে আমি ফোন করেছিলাম ।

রোজিনার ভাগিনা সোহেল জানান, দোকানে তার মৃত্যুর খবর শুনে দেখতে গিয়ে তাকে মাটি থেকে মাত্র এক ইঞ্চি উপরে ঝুলন্তবস্থায়  দেখতে পাই। পাশে একটি প্লাস্টিকের টুলও ছিলো এ থেকে বুঝা যায়, এটি পরিকল্পিত হত্যা বা মৃত্যুর পরে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ করোনার একি কাল !!

এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ থানার ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা মেয়ের বোন ছালেহা বেগমের কাছ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটা মামলা নিয়েছি । তাতে ৬ জনকে সন্দেহভাজন আসামী করা হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। সেক্ষেত্রে এটা হত্যা প্রমানীত হলে আমরা আবারো মামলা নেবো বা কেউ বাদী হতে না চাইলে থানা বাদী হয়ে মামলা পরিচালনা করবে। তারজন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ঘটনাস্থলের কিছু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত দেহ দাফনের প্রাক্কালে তার গলা চেপে ধরার চিহৃ পাওয়া গেছে। তাছাড়া ছোট দুটো ফুটফুটে বাচ্চা রেখে সে আত্মহত্যা করা একেবারেই অসম্ভব। “এর আগেও সোহাগ তার পুর্বের স্ত্রীকে মেরে সাপে কাটার নাম দিয়েছে” এমন অভিযোগের তীর ভাসছে বাতাসে ।


Skip to toolbar