• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

চাল কম দেয় মনছুর ডিলার : ডিলারশিপ বাতিলের প্রস্তাব দিলো ভ্রাম্যমান আদালত

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ৪৭৩ ৪ ৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
মগধরার মুনছুর ডিলারের বিরুদ্ধে ৬ কেজি করে কম চাল দেওয়ার অভিযোগে ডিলারশিপ বাতিলের প্রস্তাব ভ্রাম্যমান আদালতের
মগধরার মুনছুর ডিলারের বিরুদ্ধে ৬ কেজি করে কম চাল দেওয়ার অভিযোগে ডিলারশিপ বাতিলের প্রস্তাব ভ্রাম্যমান আদালতের

 বাদল রায় স্বাধীন:


মগধরা ইউনিয়নের সরকারী চালের ডিলার মুনছুরের বিরুদ্ধে উপকারভোগী প্রতি ৬ কেজি করে চাল কম দেওয়ার প্রমান মিলেছে।

১৪ এপ্রিল সকালে ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালীন সময়ে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া বাজারে মুনসুর ডিলার চাউল বিক্রির সময় নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন উপকারভোগীর চাল মেপে ৩০ কেজির পরিবর্তে কারো বস্তায় ২৪ কেজি কারো বস্তায় ২৫ কেজি পেয়েছেন।

তাকে তাৎক্ষনিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাল কম দিচ্ছে কেন জানতে চাইলে বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে আমাকে যেভাবে বস্তা প্যাকিং করে দিয়েছে সেভাবে আমি দিয়ে দিচ্ছি। তাৎক্ষনিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার দোকান বন্ধ করে দিয়ে তাকে নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌধি চাকমার সাথে দেখা করতে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনের কাছে তার বিরুদ্ধে পরবর্তীততে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য ইউএনও স্যারের কাছে জানিয়েছি। এর পর কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে আমি অবগত নই ।

অপরদিকে ডিলার মুনছুরের কাছে চাউল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে খাদ্য গুদাম থেকে যেভাবে বস্তা ভরে দিয়েছে আমি সেভাবে বিতরন করেছি।কোনটাতে ২৮ কেজি কোনটাতে ২৫ কেজি কিন্তু আমি সবার থেকে ৩০০ টাকা করে নিয়ে বস্তা যেভাবে এসেছে সেভাবে দিয়ে দিয়েছি। কারো থেকে বেশী বা কারো থেকে কম টাকা নিইনি। এরপর তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নির্দেশমতো নির্বাহী অফিসারের সাথে দেখা করেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন আমি খাদ্য নিয়ন্ত্রয়ক রবীন্দ্র লাল চাকমা সহ দেখা করেছি। আমাকে প্রশ্ন করে বিদায় দিয়েছেন তিনি।

প্রতিনিয়ত সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের ফেইসবুক আইডিতে ভ্রাম্যমান আদালতের বিস্তারিত আপডেট পোস্ট করা হয়। প্রতিদিনের মতো ১৪ তারিখের পোস্টে বিস্তারিত সব উল্লেখ করা হলেও ডিলারের বিষয়টি সম্পুর্ন ভাবে গোপন করা হয়েছে। যা জনমনে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলছে।

মুনসুরের বক্তব্যের বিপরীতে ওসি এলএসডি বা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবাশিষ দাশ বলেন, উক্ত ডিলার যে বক্তব্য দিয়েছে তা সে সত্যের অপলাপ করেছে। কারণ গুদাম থেকে চাল দেওয়ার সময় শতভাগ ওজন করে দেওয়া হয় এবং তাদের উপস্থিতিতে পূর্ণসহযোগিতায় উক্ত চাল ডেলিভারী দেওয়া হয়। একথা সত্য যে আমাদেরকে চট্টগ্রাম থেকে চাল আনতে প্রচুর বস্তা ফেটে যায়/বস্তার মুখ খুলে যায়। ফলে ঐ সকল বস্তায় চাল কমে যায়। এজন্য আমরা কোন ডিলারকে বস্তা গুনে চাল ডেলিভারী করি না। শতভাগ ওজনে চাল প্রদান করি। এটা সবার ক্ষেত্রে করি।

অভিযুক্ত ডিলার মুনসুরের ৪৮২ কার্ডে মোট ১৪৪৬০ কেজি চাল প্রাপ্য। তাকে গুদামে থেকে শতভাগ ওজনে ও পূর্ন সহযোগিতায় উক্ত চাল ডেলিভারী করা হয়। তার ৪৮২ বস্তা চালের মধ্যে ৭২/৭৩ টি বস্তা ছেঁড়া/ ফাটা / অথবা বস্তার মুখ হাত দিয়ে সেলাই করা।

আরো পড়ুনঃ সন্দ্বীপে ইউপি মেম্বারের চাল কেলেঙ্কারী: ভয়ে মুখ খুলতে চায়না কেউ 

উক্ত বস্তা গুলোতে ১-৫ কেজি পর্যন্ত চাল কম আছে। তবে গড়ে ৩ কেজির বেশি হবে না। ফলে উক্ত বস্তায় কম চালের পরিবর্তে তাকে অতিরিক্ত ৭ বস্তা চাল শতভাগ ওজনে ২১০ কেজি দেওয়া হয়েছে। ডিলারের দায়িত্ব হলো উক্ত বস্তা গুলো ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত বস্তা থেকে ভোক্তাকে প্রয়োজনীয় চাল বুঝিয়ে দিবে। এ বিষয়ে আমার অফিস ও উপজেলা অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু ডিলার তা অমান্য করে ভোক্তাকে কম চালের বস্তা গুলো দিয়ে দিয়েছে এবং ম্যাজিষ্ট্রেট ও আপনাদের নিকট উক্ত নির্দেশনা ও অতিরিক্ত ৭ বস্তা চাল গোপন করেছে। এটাই হলো সত্যের অপলাপ। তাকে দেওয়া চালের ও অতিরিক্ত বস্তা গুলো হিসাব আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মুনসুরের বিষয়ে উপকারভোগীরাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন বছরে ৫ বারই সে এভাবে চাল কম দেয়।

উল্লেখ্য যে মুনসুর ডিলারের আওতাধীন মোট ৪৮২ জন উপকারভোগী রয়েছে। সে মোতাবেক সে প্রতিজনকে গড়ে ৫ কেজি চাউল কম দিলে মোট পরিমান দাঁড়ায় ২৮৯২ কেজি। এবং বছরে ৫ বার এ চাউল প্রদান করা হয় সে হিসেব মোতাবেক সে প্রতিবছর চাল কম দেয় বা চুরি করে মোট ১৪৪৬০ কেজি বা ১৪.৪৬ মেট্রিক টন। যা খোলা বাজারে তার অর্থ মুল্য দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ২শত টাকা।


Skip to toolbar