• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন

প্রিয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল মাঠে সন্দ্বীপ ইউএনও, লক্ষ্য তরুণদের মাঠমুখী করা

বিশেষ প্রতিনিধি / ৫ ৪ ৯
আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে আর্জেন্টিনার সাদা-আকাশী জার্সি গায়ে ফুটবল পায়ে ছুটছেন এক তরুণ। তাকে ঘিরে সতীর্থ ও দর্শকদের টানটান উত্তেজনা। প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে পেশাদার ফুটবলার ভাবলে ভুল করবেন না। তবে তিনি কোনো পেশাদার খেলোয়াড় নন, তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। ব্যস্ত দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতকে রুটিন বানিয়ে নিয়েছেন এই সরকারি কর্মকর্তা। শুধু নিজেই খেলছেন না, তার এই ক্রীড়াপ্রেম পুরো উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় তরুণ সমাজের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নেমে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেন ইউএনও আমজাদ হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ফুটবলই নয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের প্লে-গ্রাউন্ডেও রয়েছে তার নিয়মিত ও সরব উপস্থিতি। সারাদিনের দাপ্তরিক কাজ শেষে ক্লান্তি দূর করতে প্রায়ই সন্ধ্যায় কর্মকর্তাদের নিয়ে বসে ব্যাডমিন্টনের আসর। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চার সেশনও চলছে।

ইউএনও’র এমন ক্রীড়ামুখী উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে সরকারি দপ্তরগুলোতেও। নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ফলে কর্মকর্তাদের অলসতা কেটেছে, শরীরে ও মনে ফিরেছে সতেজতা। যার ফলে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এক অভূতপূর্ব কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, “এই ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে আমাদের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন জোরদার হয়েছে, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও নতুন গতি ও উদ্দীপনা ফিরে এসেছে।”

এদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের এভাবে মাঠে খেলতে দেখে স্থানীয় তরুণ ও সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মাঠে খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইশতিয়াক বলেন, “মাদক বা মুঠোফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে না থেকে বিকেলে মাঠে আসার পেছনে ইউএনও’র এই উদ্যোগ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে আমাদের।” সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন আমার দেশকে জানান, “শরীর ও মন সুস্থ রাখতে খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। সরকারি কাজের চাপ সামলে কর্মকর্তারা যাতে মানসিক অবসাদে না ভোগেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ।” একই সাথে সন্দ্বীপের তরুণ সমাজকে মাঠমুখী রাখতে নিজেই মাঠে নেমে খেলায় অংশ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।


Skip to toolbar