পুনরায় বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দেশের ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সোমবার ( ৬ অক্টোবর) প্রথম দফায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচনের পর সভাপতি ও সহসভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমবার সভাপতি হয়ে বুলবুল বলেছিলেন, টেস্ট নয় টি-টোয়েন্টি খেলতে এসেছেন তিনি। আর দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণ করে সাবেক এই অধিনায়ক বললেন, এবার সত্যি সত্যিই বিসিবির প্রেমে পড়েছেন তিনি।
দীর্ঘযাত্রায় সভাপতি হওয়ার প্রশ্নে বুলবুল বললেন, ‘আমি এটাকে একটা যাত্রার অংশ ধরে নিয়েছি। বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের প্রেমে পড়ে গিয়েছি।’
অবাক করা বিষয় হল সভাপতি হিসেবে আমিনুলের নাম প্রস্তাব করেছেন ফারুক, আবার সহসভাপতি হিসেবে ফারুকের নাম প্রস্তাব করেছেন আমিনুল। দুজনই নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ফারুককে সরিয়ে দিয়েই আমিনুলকে বসানো হয়েছিল বিসিবি সভাপতির চেয়ারে। উদাহরণটা হয়তো টানা সে কারণেই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অপর সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন।
আমিনুল যতই সৌহার্দ্যের কথা বলুন না কেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা, কাদা-ছোড়াছুড়ি—নির্বাচন আয়োজনের পথে অনেকের সঙ্গেই সৌহার্দ্যের সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা সংগঠকেরা শুধু নির্বাচন বর্জন করেই থামেননি, আমিনুলদের ভবিষ্যৎ পথটাও কঠিন করার আভাস দিয়ে রেখেছেন কেউ কেউ।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তবুও একসঙ্গে পথচলার কথাই বলেছেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই। যারা ক্রিকেট বোর্ডে আছেন, যারা নেই—সব অংশীজনকে আমরা আহ্বান জানাব বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে এবং আমাদের সহযোগিতা করতে।’ প্রয়োজনে নির্বাচনের বিরোধীপক্ষের কাছে যাবেন, এমন কথা জানিয়ে আমিনুল পরে বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে সব দেশে, সব সেক্টরেই এমন হয়। কিন্তু আমার জানামতে, আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের ভেতর থেকেছি।’
আমিনুলের কথা বলার সময় তার পাশে ছিলেন জাতীয় দলের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদ। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শুরুতে বিসিবির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফারুকই। তখন থেকে বোর্ড চলছিল ১০ পরিচালক নিয়ে।
এবার পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে মনে করেন এবারের বোর্ডে সহসভাপতির দায়িত্ব পাওয়া ফারুক। অতীতকে পেছনে ফেলে আসার আহ্বানও তিনি জানিয়েছেন সবাইকে, ‘কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঘটেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য যেহেতু একটাই, আমার মনে হয় ছোটখাটো বিষয় থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।’