আহমেদ সারজিলঃ
গত ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখে সন্দ্বীপের সরকারি হাজী এ. বি. কলেজ কতৃক একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়,যাতে উল্লেখ ছিলো –
“সরকারি হাজী এ.বি. কলেজের আশেপাশে সকল নাগরিক খেলোয়াড় ও যুবক ছাত্র/ছাত্রী সকল জনসাধারণকে জানানো যাচ্ছে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ বন্ধ থাকা কালীন সময়ে কাউকে ক্যাম্পাসে কলেজ বিল্ডিং এ মাঠে প্রবেশ করা অযথা ঘুর ঘুর করা দলবেঁধে বেড়াতে আসা ও বেড়াতে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এমত অবস্থায় কেউ এই আইন অমান্য করলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে। এই মর্মে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে “
কিন্তু নোটিশ বোর্ডে আটকানো সাড়ে পাঁচ লাইনের সেই নির্দেশনা পড়ে দেখা যায় সেখানে ৯ টি ভুল, এবং স্মারক নং ও তারিখ এর জায়গায় কিছু নেই, কিন্তু অধ্যক্ষ কতৃক স্বাক্ষরিত।
একটি সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নোটিশে ৯ টি ভুল সহ স্মারক নং ও তারিখ উল্লেখ নেই কিন্তু অধ্যক্ষ কতৃক অনুমোদিত দেখে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল করিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “আমার কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পোষ্ট আছে আটটি কিন্তু একজন কর্মচারীও নেই যা আছে দু-তিনজন পিয়ন সবাই খুব বেশি হলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে । যে বিজ্ঞপ্তি প্রিন্ট করেছে ভুল তার । আমি বেশ কয়েকবার সংশোধন করে দিলে ও তারা একই ভুল করে ।
এই ভুল সংশোধনে কি করা যায় জানতে চাইলে তিনি জানান, “এই বিজ্ঞপ্তি আবার সংশোধন করে দিবো । আমার কলেজে ৩৪ টি পোষ্ট এর মধ্যে ৩১টি খালি, আমার কলেজে কোন কম্পিউটার অপারেটর নাই ইলেকট্রিশিয়ান নাই আপনারা বলেন আমি কিভাবে এই স্বল্প কর্মচারী দিয়ে এত এত কার্যক্রম পরিচালনা করবো?”
প্রফেসর ফজলুল করিম জানান, একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দিতে গেলে ২০০০০ টাকার নিচে পাওয়া যাবে না । এখনো ৮জন কর্মচারী ও ৯ জন শিক্ষক এর যে বেতন এতে কেউ কাজ করতে আগ্রহী না । আমি বহু কষ্টে প্রতিমাসে ১০০০টাকা বেশি বরাদ্দ আনাই। আমরা প্রতি মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের তথ্য দেই কিন্তু সন্দ্বীপে কেউই আসতে চায় না । দুএকজন আসলেও উনারা ঘুষ দিয়ে আবার ট্রান্সফার নিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, কলেজে শিক্ষকের পোষ্ট আছে ৫৪ টা সেখানে শিক্ষক আছে ১৩ জন, আমি কিভাবে কলেজের কার্যক্রম চালাই? পিয়নদের মধ্যে কেউই শিক্ষিত না । এতসব ঝামেলার মধ্যে যে কলেজ চলতেছে এটাই তো শুকরিয়া আদায় করা উচিত !
তিনি আরো বলেন, সন্দ্বীপ উপজেলায় কোন সরকারি কর্মকর্তা আসতে চায় না । দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যার কারণে কেউ আসতে চায় না। কলেজের নির্ধারিত চতুর্থ শ্রেণির আটটি পোষ্ট এর মধ্যে একজন ও নেই । তাই কিছু কাজ পিয়নদের দিয়ে করাতে হয় । যার পরিনতি এই ভাবে হয়।