• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

জেলায় জেলায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে মিছিল-মানববন্ধন

সন্দ্বীপ জার্নাল ডেস্ক: / ৭৬৭ ৪ ৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

মহামারি করোনার মধ্যেও ধর্ষণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যকার নয় মাসে প্রতিদিন গড়ে তিনটির বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর সেপ্টেম্বরে এ সংখ্য বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এ পরিস্থিতে ধর্ষকদের বিচার চেয়ে এবং প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য দেশের বিভিন্নস্থানে মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ। জেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রতিবাদ-মানববন্ধন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর একাধিক সড়কে মিছিল, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে শাহবাগ, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী জানান, বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. লতিফ জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার আড়ং-এর সামনে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন এনজিও ও সংগঠন।

মৌচাক এলাকার এক ব্যক্তি জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করেছে শিক্ষার্থীরা। মৌচাক এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের মিছিলটি মালিবাগ মোড় হয়ে শাহাবাগেরের দিকে গেছে। এ ছাড়াও গতকাল সোমবারের মতো আজও শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদসহ একাধিক ছাত্র সংগঠন।

টাঙ্গাইলে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মিছিল-মানববন্ধন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে বর্বোরোচিত নারী নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় প্রথমে ফাতেমা রহমান বিথী নামে করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণবিরোধী শ্লোগান সম্বলিত কয়েকটি প্লাকার্ড নিয়ে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেয়। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

এর আগে, সাধারণ ছাত্র-যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

গাজীপুরে ধর্ষণ রোধে সাত দফা দাবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ধর্ষণকারীদের সাত দফা বাস্তবায়ন করা ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ধষর্ণকারীদের সাত দফা বিচারের আওতায় আনার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ও এআই ইউবি ইউনিভার্সিটি ও টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বক্তব্যে তারা বলেন, ধর্ষণকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই ফাঁসির কার্যকর করতে হবে। নির্জন রাস্তায় সচল সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। পূর্ববর্তী সকল ধর্ষণ মামলার ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করতে হবে। দলীয় কোনও নেতা ধর্ষণকারীকে আশ্রয় দিলে তার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষিতার বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ভোলায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সারাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই মানববন্ধন শুরু হয়।

এ সময় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, সচেতন নাগরিক সমাজের সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন, সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন শিপু, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেহেদী হাসান, তাহসিন, মনিরা বেগম ও নূরে-আনজুম।

শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও দ্রুত ট্রাইব্যুনালে এর বিচার দাবি করেন।

এদের দাবি এভাবে ধর্ষণের ও নির্যাতনের ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে দেশে সামাজিক অবস্থা ভেঙে পড়বে। এমন পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না।

ঈশ্বরদীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড। ধর্ষণ নারীর লজ্জা নয়, পুরুষ তুমি মানুষ হও। আর নয় ধর্ষণ, গড়ে তুলুন আন্দোলন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, ধর্ষণ বন্ধ হোক। এমন স্লোগান লেখা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ব্যানার হাতে নিয়ে দেশব্যাপী চলা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে কিছু তরুণ।

মঙ্গলবার রাতে শহরের ষ্টেশন রোড প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক ও বাজারের প্রধান ফটক এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে এলাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা অংশ নিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের হাতেও ছিল ধর্ষণের বিরুদ্ধে লেখা স্লোগান। শাহরিয়ার নাফিজ স্মরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের সময় বক্তব্য দেন মুকিত বিশ্বাস, আসিফ ইসলাম, নাবিল আহমেদ রুদ্র, সঞ্জয় চৌধুরী ও আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

ধর্ষণের প্রতিবাদে যুব মহিলা লীগের মানববন্ধন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে যুব মহিলা লীগ। এ সময় তারা ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানান।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ আয়োজিত নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এছাড়া ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মিছিল বের করেছে শিক্ষার্থীরা। মৌচাক এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল মালিবাগ মোড় হয়ে শাহবাগের দিকে যায়। বর্তমানে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করছেন। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদেরও কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেছে।

নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে তিতুমীর কলেজে মানববন্ধন

রাজধানীর মহাখালীতে সরকারি তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের সামনে নোয়াখালী বেগমগঞ্জের বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অপরাধীদের বিচার ও সর্বোচ্চ সাজাসহ একাধিক দাবি জানান।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা ‘চল যাই যুদ্ধে ধর্ষকের বিরুদ্ধে’ সহ একাধিক স্লোগান দিতে শোনা যায়। এছাড়া অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথা জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান- সারাদেশে যেভাবে ধর্ষণ শুরু হয়েছে তাতে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা ভীত। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনা ভাইরাল হওয়ার কারণে সবার সামনে এসেছে, কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের এমন অনেক মা-বোন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে আজ আমরা মানববন্ধনে এসে দাঁড়িয়েছি।

তারা জানান- এই প্রতিবাদ চলতে থাকবে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার থাকব। সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন থাকবে ধর্ষকরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।

ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে রাজশাহীতে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরো পায়েন্টে কর্মসূচি পালিত হয়।

এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সংহতি জনিয়ে বক্তব্য দেন।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী মিনহাজ তৌহিদ, এম ওবাইদুল্লাহ ও আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- পরিবেশ আন্দোলনের নেতা মাহাবুব টুংকু, ছাত্রনেতা তামিম সিরাজী, নারীনেত্রী লিশা আক্তার, রক্তবন্ধনের অ্যাডমিন আলপনা আক্তার শোভা, রুমেল রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ৬ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, ধর্ষণের বিচারের জন্য দ্রুত আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে যে কোনো ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং গণধর্ষণ এর ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ফাঁসি, ১৮ বছরের নিচে কোনো কিশোরী ধর্ষিত হলে তার পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ সকল দায়ভার রাষ্ট্রের গ্রহণ, ধর্ষণ মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিস্পত্তি, ধর্ষণকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা, ৩ মাসের মধ্যে আগে সংগঠিত সকল ধর্ষণ মামলার বিচারের কাজ নিস্পত্তি এবং ধর্ষণ মামলায় প্রশাসনের কারও স্বজনপ্রীতি, গাফিলতি ধরা পড়লে অথবা টাকা নিয়ে নিষ্পত্তি করতে চাইলে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

ধর্ষণের প্রতিবাদে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও গণপদযাত্রা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ দেশজুড়ে চলমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে জড়িত সকল অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও গণপদযাত্রা কর্মসূচী পালন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণবিরোধী বক্তব্য সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ধর্ষক ও ধর্ষণে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান৷

দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধ হয়ে সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। পরে সংসদের সামনে গিয়ে অবস্থান করেন এবং সবাইকে নিজ নিজ স্থান থেকে প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশের এই মানচিত্রে আমাদের মা-বোন আজ নিরাপদ নেই। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন নরপশুদের হাতে। বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ দেশের প্রত্যেকটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার চাই। বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কামরুল ইসলাম তারেক, মওদুদ আহমেদ, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সজীব আহমেদ এবং ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন মানববন্ধনের সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রে একক মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র ইয়ার খাঁন সারা দেশে ধর্ষণের প্রতিবাদে একক মানববন্ধন করেছেন। মুখ বাঁধা, হাত বাঁধা ও সামনে একটি প্রতিবাদী ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। আজ সোমবার ১১টার দিকে শহরের বাজার স্টেশন কদম ফুয়ারার পাশে প্রতিবাদী ফেস্টুন নিয়ে একক মানববন্ধন করেন তিনি।

মানববন্ধন চলাকালে তার প্রতিবাদী ফেস্টুনে লেখা ছিল, আমার হাত বাঁধা, মুখ বাঁধা, হে জননী আপনিতো মাতা, এটা কি গণধর্ষন তান্ত্রিকদেশ? আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সারা দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ বিচার চাই। ওরা তো আপনারই সন্তান, সারা দেশে ধর্ষণের প্রতিবাদে একক মানববন্ধন।

এ সময় তিনি কারো সাথে কথা না বললেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সইচ্ছাই কথা বলেন। কলেজ ছাত্র ইয়ার খাঁন বলেন, সারা দেশে প্রতিনিয়ত চলছে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ। কারো মা কারো বোন কারো আত্মীয় স্বজনরা হারাচ্ছেন তাদের সারা জীবনের সাধনা। এই গণধর্ষণ ঠেকাতে নেই কোনো প্রতিবাদ, নেই কোনো পদক্ষেপ।

পরে তিনি আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিলেটের আইনজীবীরা ধর্ষকের পক্ষ না নিয়ে ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার দাবি জানিয়ে আদালত চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল করেন। তিনি সারা দেশের সকল মানুষকে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

ধর্ষণের প্রতিবাদে কালো কাপড় বেঁধে রাবিতে মানববন্ধন

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় ও হাতে স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে তারা দেশের সকল ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ধর্ষণের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন

ধর্ষণ প্রতিরোধে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের (ফমেক) শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে ফমেকের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মিসবাহউদ্দীন, রায়হানুল ইসলাম, রোয়েল সাহা রোমী, চতুর্থ বর্ষের তানজিম আহমেদ সিয়াম, নাজমুস সাকিব, তৃতীয় বর্ষের ইশতিয়াক আহমেদ অর্ণব, ইশতিয়াক পরাগ, নাইমুল নেহাল, নাইমুল রোচি, আশরাফুল ইসলাম, জহির, জুনেদ আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ খান, ওয়ালিদ বিন মিজান, আকাশ সরকার, মাহরুব রহমান নাইম ও মাশুক মুগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন শেষে দেয়া স্মরকলিপিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও রাজেন্দ্র কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসা শিক্ষার্থী বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও মেসে অস্থায়ীভাবে বসবাস করার বিষয়টি উল্লেখ করে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই যৌক্তিক কর্মকাণ্ড গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

একইসঙ্গে সারা দেশ জুড়ে ঘটতে থাকা ধর্ষণের ঘটনাসমূহের ফলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, সচেতন নাগরিক বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ কারণে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় বিচারহীনতার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বরিশালে পৃথক মানববন্ধন

দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সব সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে বরিশালে পৃথক মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানানো হয়।

বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের উদ্যোগে এবং সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা পরিষদের সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পুষ্প চক্রবর্তী, প্রতীমা সরকার, জেসমিন আক্তার এবং পরিবেশবিদ রফিকুল আলমসহ অন্যান্যরা। নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মহিলা পরিষদের এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। বক্তব্য রাখেন আতিকুর রহমান, রনি খন্দকার ও ফয়সাল হোসেন।

ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শাহবাগে গণজমায়েত

ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে শাহবাগে জড়ো হন কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃষ্টি উপক্ষো করে ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে তারা গণজমায়েত করেন।

ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘ব্যর্থ’ হওয়ার অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। সেইসঙ্গে শিগগির ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল বের করেন তারা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, আমাদের আন্দোলন মসজিদ, মন্দির, স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ যাতে ধর্ষণের শিকার না হয় তার জন্য।

বাংলাদেশ জার্নাল


Skip to toolbar