ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ওইদিন চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। রোববার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে তিনি রায়ের এ তারিখ ঠিক করে দেন।
এ ট্রাইবুনালের বিশেষ কৌঁসুলি আবু আবদুল্লাহ ভূঞা রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি করেন। তিনি বলেন, “মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এ কাজ করতে পারে! কোনো শত্রুতা ছাড়াই কেবল নিজেদের দায় এড়াতে আহতকে হাসপাতালে ভর্তি না করে আসামিরা এই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবহন শ্রমিকদের হাতে আরও জিম্মি হয়ে পড়বে।”
আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী শুনানি করলেও অপর এক আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য সময় চাইলে বিচারক তা নাকচ করে রায়ের তারিখ নিধারণ করে দেন।
মামলার তিন আসামি হানিফ পরিবহনের বাসচালক জামাল হোসেন, সহকারী ফয়সাল হোসেন ও সুপারভাইজার জনি জামিনে ছিলেন। রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পায়েলের মামা মামলার বাদী গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বলেন, তিনি মর্মন্তুদ এ ঘটনার ‘দৃষ্টান্তমূলক’ রায় চান।
২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে হানিফ পরিবহনের (নম্বর ৯৬৮৭) বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসছিলেন। ভোরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। গত ২৩ জুলাই সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচে খালে তার লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তার মামা গোলাম সোরয়ার্দী বিপ্লব তিন জনকে আসামি করে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ হানিফ পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল ও আরামবাগ থেকে চালক জামাল হোসেন ও হেলপার ফয়সালকে গ্রেফতার করে।
আরো পড়ুনঃ ভিসার মেয়াদ কম থাকলে আগে টিকিট দিচ্ছে বিমান
২৬ জুলাই চালক জামাল হোসেন মুন্সীগঞ্জের একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চালক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, বাসের অটো দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পায়েল রাস্তায় পড়ে যায়। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে মারা গেছে ভেবে তাকে পাশের ভাটেরচর সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে তারা ঢাকায় চলে আসেন।
পায়েলের মৃত্যুর পর তার মামা গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বাদী হয়ে চালক জামাল হোসেন, তার সহকারী ফয়সাল হোসেন ও সুপারভাইজার জনিকে আসামি করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় ওই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গজারিয়া থানার পুলিশ ওইবছর ৩ অক্টোবর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। প্রথমে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হলেও পায়েলের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে করে।
ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবদুল হালিম ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সেখানে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়।
কিন্তু আসামিপক্ষের আবেদনে হাই কোর্টের আদেশে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষ ঢাকার এ ট্রাইবুনালে আগের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের তলব করে (রিকল) পুনরায় জেরার আবেদন জানান। বিচারক তাতে সায় দিলে আবার শুরু থেকে সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ফলে রায় পিছিয়ে যায়।