ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আংশিক ধকল সইতে শুরু করেছে সন্দ্বীপ । ইতোমধ্যেই সারা সন্দ্বীপে ঝড়ো বাতাসের বেগ বেড়েছে । চর এলাকার সকল গবাদি পশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে জোয়ারের প্রভাবে পানি বাড়ছে সাগরে, সন্দ্বীপের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এর প্রভাব ভিন্ন ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগধরার কিছু অংশ এবং সারিকাইত, মাইটভাঙ্গা, মুছাপুরের উপকূল এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ বরাবর পানি হয়ে গেছে । সারিকাইত ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনিরের প্রচেষ্টায় বেড়িবাঁধের কিছু দুর্বল অংশ মেরামত করা হলেও সেটি কতক্ষন স্থায়ী হবে তা বলা মুশকিল ।
আরো পড়ুনঃ ভেসে যাওয়া সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার
এদিকে মগধরা ৬ নং ওয়ার্ড বেড়িবাঁধের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রচন্ড ঝড়ো বাতাস বইছে , জোয়ারের পানি এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ অবধি আসেনি , পরিস্থিতি খুব খারাপ না হলে এই এলাকার উল্লেখযোগ্য তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা কম ।
সারিকাইত থেকে চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধের কিছু অংশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল,সেগুলো গত ২ দিন ধরে মেরামত করা হয়েছে । আমি এখনো এখানেই আছি , আরো কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অংশের মেরামত চলছে । ভাটার সময়ও হয়ে এসেছে , আশা করি এবারের মতো ক্ষতি আশংকা থেকে বাঁচতে পারবো । তবুও শেষ সময় পর্যন্ত সাবধান আছি ।
উপকূলের বিপদগ্রস্থ মানুষের খবর জানতে চাইলে চেয়ারম্যান পনির জানান, প্রথম দিকে মানুষ সাইক্লোন সেন্টারে যেতে আগ্রহী না হলেও বিকেলের পর প্রায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে পেরেছি । তাদের জন্য শুকনো খাবার, পানি পৌঁছে দেয়া হয়েছে । আমি খোঁজ খবর রাখছি , যে কোনো প্রয়োজনে তারা আমাকে পাশে পাবে ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সন্দ্বীপে বাতাস ক্রমেই দুর্বল হতে শুরু করেছে , ভাটা পরে গেছে সাগরে কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার মধ্যেই আছে পানি । উপকূলীয় বেড়িবাঁধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সক্রিয় আছেন সেচ্ছাসেবীরা । আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, হয়তো এবারের মত বিপদ কাটবে সন্দ্বীপবাসীর ।
সন্দ্বীপ জার্নাল/ইএএম